কওমিয়ানদের ছদ্মবেশে জামায়াতি এজেন্ডা-
কওমিয়ানদের ছদ্মবেশে জামায়াতি এজেন্ডা
![]() |
| কওমিয়ানদের ছদ্মবেশে জামায়াতি এজেন্ডা |
কিছু মানুষ আছে, যারা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে দীর্ঘদিন ধরে একটি ধারার ভিতরে প্রবেশ করে, তারপর সুযোগ বুঝে সেই ধারাকেই আঘাত করে। মাওলানা আলী হাসান উসামা, নুরুজ্জামান নোমানী এবং তাদের মতো জামায়াতে যোগদানকারী তথাকথিত “কওমিয়ান”রা ঠিক সেই শ্রেণিরই প্রতিনিধিত্ব করে।
এরা কখনো প্রকৃত কওমি ছিল না বরং কওমির আবরণে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য কাজ করেছে। কওমি অঙ্গনে প্রবেশ করে তারা ধীরে ধীরে বিভাজন সৃষ্টি করেছে, একদলকে আরেকদলের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছে, যাতে মূলধারার নেতৃত্ব দুর্বল হয় এবং নিজেদের জন্য জায়গা তৈরি হয়।
তাদের কৌশল ছিল অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও ধূর্ত। কখনো “জিহাদি” পরিচয়ে আবির্ভূত হয়েছে। ভাবসাবে মনে হয়েছিল তিনি আমিরুল মুজাহিদ হিসেবে অবতীর্ণ হয়ে এদেশে খেলাফত প্রতিষ্ঠা করে ফেলতেছেন!
কখনো “হেফাজতি” আবেগে নিজেদের জড়িয়েছে। মনে হয়েছিল এদের চেয়ে হেফাজতপ্রেমী। ক
কিন্তু প্রতিটি পরিচয়ের আড়ালে ছিল একটি অভিন্ন উদ্দেশ্য। চরমোনাই ও ইসলামী আন্দোলনের প্রভাব কমিয়ে দেওয়া এবং জামায়াতের পক্ষে মাঠ তৈরি করা।
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, তারা কওমি সমাজের ভেতরে থেকেই কওমির বিরুদ্ধে কাজ করেছে। তারা জানতো, সরাসরি আঘাত করলে প্রতিরোধ আসবে—তাই তারা ভেতর থেকে ফাটল ধরিয়েছে। কখনো একটি গ্রুপকে উস্কে দিয়ে অন্য গ্রুপকে কোণঠাসা করেছে, কখনো বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ঐক্য নষ্ট করেছে।
আজ যখন তারা প্রকাশ্যে জামায়াতে যোগ দিয়েছে, তখন আর তাদের পরিচয় গোপন নেই। বরং এটি প্রমাণ করে—এতদিন তারা যে “নিরপেক্ষ” বা “ধারার লোক” সেজেছিল, তা ছিল নিছক অভিনয়।
এদের অবস্থান স্পষ্ট: তারা মূলধারার কওমি চেতনার অংশ নয়। তারা এমন একটি রাজনীতিকে শক্তিশালী করতে চায়, যার ইতিহাস প্রশ্নবিদ্ধ এবং যার কৌশল বিভাজনের উপর দাঁড়িয়ে। যারা কওমী মাদ্রাসা কেন্দ্রিক পরিচালিত সবগুলো দ্বীনি কাজের বিরোধী। কিছু প্রকাশ্য আর কিছু কৌশলগত।
অতএব, কওমি অঙ্গনের দায়িত্বশীল আলেম-উলামা ও সাধারণ মানুষকে এখন সচেতন হতে হবে। কে প্রকৃত, আর কে ছদ্মবেশী,এই পার্থক্য বুঝতে হবে। কারণ, ভেতরের শত্রু বাহিরের শত্রুর চেয়েও বেশি বিপজ্জনক।
© — মুফতি শামসুদ্ দূহা আশরাফি হাফি.

Comments
Post a Comment